
এমডি রেজওয়ান আলী বুরো প্রধান:
বাংলাদেশের রাজনীতি,চিকিৎসা ও সমাজকল্যাণ অঙ্গনের সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক ডা.এ.জেড.এম. জাহিদ হোসেন বর্তমানে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক,সামাজিক ও চিকিৎসা সেবামূলক অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি দেশের সামাজিক নিরাপত্তা,নারী শিশু কল্যাণ,দারিদ্র্য বিমোচন এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি তিনি নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব লাভ করেছেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ (দিমেক) হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা.এ.জেড. এম.জাহিদ হোসেন। একই কমিটিতে সহ সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। নতুন দায়িত্বে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নের প্রত্যাশা
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন হাজার হাজার রোগী এখানে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন,সেবার মান বৃদ্ধি এবং রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা কমিটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপ সচিব কাজী শরিফ উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে সভাপতি ও সহ-সভাপতিকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন,একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও মন্ত্রীর নেতৃত্বে হাসপাতালের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও জনমুখী হবে। চিকিৎসক থেকে জাতীয় নেতৃত্বে অধ্যাপক ডা.এ.জেড. এম.জাহিদ হোসেন একজন খ্যাতিমান চিকিৎসক,শিক্ষক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। চিকিৎসা বিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা অর্জনের পর দীর্ঘদিন তিনি চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ তাকে সাধারণ মানুষের কাছে সুপরিচিত করে তুলেছে। তিনি দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা হিসেবেও দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করে আসছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকার পাশাপাশি স্বাস্থ্য,শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ে তার বিভিন্ন বক্তব্য ও উদ্যোগ ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে নতুন কর্মযজ্ঞ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি দরিদ্র, অসহায়,প্রতিবন্ধী,প্রবীণ,বিধবা,নারী ও শিশুদের জন্য বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণ,প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং মানবিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সরকারের ঘোষিত সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে তিনি বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি: সামাজিক নিরাপত্তার নতুন দিগন্ত সমাজকল্যাণ মন্ত্রী হিসেবে ডা.জাহিদ হোসেনের অন্যতম আলোচিত উদ্যোগ হলো “ফ্যামিলি কার্ড” কর্মসূচি। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নিম্নআয়ের ও দরিদ্র পরিবারের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা এবং আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে দেশের বিপুল সংখ্যক পরিবারকে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং দারিদ্র্য হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নারী ও শিশু উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে ডা.জাহিদ হোসেন নারী নির্যাতন প্রতিরোধ,বাল্যবিবাহ রোধ, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি নারী শিক্ষার প্রসার, দক্ষতা উন্নয়ন,স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন। নারী ও শিশুবান্ধব সমাজ গঠনে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেছেন। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, বিশেষ করে UNFPA এবং UN Women এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে তিনি নারী উন্নয়ন,যুব উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা,জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেছেন। এসব বৈঠকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি,টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জন এবং সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচির কার্যকারিতা বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। মানবিক বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয় বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা.এ.জেড.এম.জাহিদ হোসেন বারবার উল্লেখ করেছেন যে সরকারের লক্ষ্য হলো “কাউকে পিছনে না রেখে” একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তিনি বিশ্বাস করেন,সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন,নারী ও শিশুদের ক্ষমতায়ন এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্যখাতে ইতিবাচক বার্তা দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার মধ্য দিয়ে অধ্যাপক ডা.এ.জেড.এম.জাহিদ হোসেনের ওপর স্বাস্থ্যসেবা খাতেও নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। চিকিৎসক, রাজনৈতিক নেতা এবং মন্ত্রী এই তিন অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে তিনি হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং রোগী বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। সামগ্রিক ভাবে সমাজকল্যাণ,নারী শিশু উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে তার নেতৃত্ব দেশের উন্নয়ন ও জন কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডকে আরও বেগবান করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Leave a Reply